সূরা বলদ

সূরা বলদ
শিকাগোতে অবতীর্ণ
আয়াত ১ থেকে ৩৬
পবিত্র লুকিলাম টেস্টামেন্ট।

হা ম বা।

ইহা সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই এবং যা নাযিল করা হয়েছে অবিশ্বাসীদের জন্য, যারা নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জন হতে ব্যয় করে এবং যুক্তিসঙ্গত সত্য কায়েম করে।

নিশ্চই আললা অবিশ্বাসীদের জন্য দিয়েছেন শিকলবিহীন মস্তিষ্ক এবং স্বাধীন জীবন যার মর্যাদা তারা অনুধাবন করতে পারে।

হে লুকিলাম আপনি বিশ্বাসীদের রূপকথা উপকথা সমৃদ্ধ কিতাবের অসারতার কথা তাদের জানিয়ে দিন।

হে নবী আপনি বলুন, নিশ্চই তথাকথিত আসমানী কিতাবসমূহ লওহে মাফুজ নামক সুবিশাল প্রস্তরফলকে খোদিত নেই।

বরং তা প্রত্যেক যুগের নবী রসূল প্রফেট পয়গম্বর ও অবতারগণ তাদের নিজ নিজ সামাজিক প্রেক্ষাপটে সুচিন্তিতভাবে কখনো কখনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই শ্লোক আকারে উদ্ভাবন করেছেন।

আর সেজন্যই প্রত্যেক যুগেই তার পূর্ববর্তী কিতাবকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

হে মানব প্রজাতি তোমরা কি দেখনি তোমাদের পূর্বপুরুষগণ কিভাবে বলদের কাঁধে জোঁয়াল স্থাপন করেছিল।

নিশ্চই ফসল সমূহ কৃষকের মেহনতের উত্তম পুরষ্কার, কোন অদৃশ্য সত্ত্বা বীজ অঙ্কুরোদগমের ক্ষমতা রাখেন না যদি তা মাটি জল এবং বায়ুর সংস্পর্শ না পায়।

আকাশের মেঘমালা কারও নির্দেশে পরিচালিত হয় না বরং তা জলচক্রের একটি পর্যায় মাত্র।

এতে চিন্তশীলদের জন্য রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শন যদি তারা তা উপলব্ধি করতে পারে।

নিশ্চই মুমিনদের কাঁধে আললা ভিত্তিহীন বিশ্বাসের জোঁয়াল স্থাপন করে দিয়েছেন এবং তাদের অন্তরসমূহ কঠিন প্রস্তরের ন্যয় ঘনীভূত করে দিয়েছেন।

আর তাদের মস্তিষ্ক তালাবদ্ধ জানালাবিহীন ঘরের সমতুল্য যেখানে আলো এবং মুক্ত বায়ু প্রবেশ করতে পারে না।

মূলত তারা জমিনের বুকে হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী এবং বিষবৃক্ষ রোপনকারী।

যখন তাদের কে এবিষয়ে আপনি জিজ্ঞাসা করবেন তখন তারা বলে থাকে আমরাতো শান্তি কায়েম করছি।

মনে রাখুন তারাই অভিশপ্ত জাতি।

যখন তাদের বলা হয় তোমরা যাবতীয় অন্ধ বিশ্বাস থেকে মুক্ত হও এবং বিজ্ঞানের রজ্জুকে আঁকড়ে ধর, তখন তারা বলে আমরাও কি বোকাদের মতো শত শত অনন্ত যৌবনার স্বপ্নদেখা বাদ দিয়ে চাপাতির কোপে রক্তাক্ত হব?

অনন্তর যখন তারা অবিশ্বাসীদের সাথে মিশে তখন ঘোষণা দেয় আমরা তো বিশ্বাসের শিকল ভেঙ্গে মুক্ত হয়েছি।

আর যখন তারা তাদের জঙ্গী শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে তখন বলে আমরা তো তথ্য সরবরাহ করছি।

হে তুয়াম আপনি তাদের যতোই হেদায়েতের বাণী শোনান তারা তাদের কাঁধের জোঁয়াল ফেলে শির উঁচু করে দাড়াবে না।

কারণ হাজার হাজার বছর জোঁয়াল বহন করায় আললা তাদের গর্দানের চামড়া শক্ত করে দিয়েছেন।

নিশ্চই পৃথিবী ধ্বংস হবার পূর্ব পর্যন্ত তারা এভাবেই থাকবে।

সেসব লোকের হালত টোনা পড়ানো বলদের মতো যার সামনে সুপুষ্ট কচি ঘাসের স্তুপ থাকা স্বত্বেও তারা অভুক্ত থাকে।

আললা তাদের কর্ণসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন যাতে তারা সংগীতের সুরের মার্ধুর্যে আপ্লুত হতে না পারে, আর আললা তাদের চোখের সামনে কালো পর্দা ঝুলিয়ে দিয়েছেন যাতে তারা শৈল্পিক সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করতে না পারে।

যাবতীয় বাদ্যযন্ত্র, নৃত্যগীত আললা তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।

যাতে তারা অসুস্থ মানসিকতায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম অতিবাহিত করে।

হে মানব সমাজ তোমরা জ্ঞানের এবাদত কর যা তোমাদের পূর্বপুরুষগণ তোমাদের জন্য রেখে গেছেন।

আশা করা যায় তাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হবে।

কোন পবিত্র সত্ত্বা তোমাদের জন্য আকাশকে ছাদ স্বরূপ নির্মাণ করেননি না করেছেন জমিনকে বিছানা স্বরূপ।

নিশ্চই আকাশ বলতে কিছু নেই মস্তক উত্তোলন করে তোমরা যা প্রত্যক্ষ করে থাক তা মহাশূন্য এবং তন্মদ্ধে প্রদক্ষিণরত অগণিত জ্যোতিষ্কের সমাহার।

আর জমিন যদি বিছানাই হয় তাহলে পর্বতমালা বালিশ না হয়ে পেরেক হলো কেন?

নিশ্চই এর উত্তরে মুমিনগণ সহিংস আক্রমনাত্মক আচরণই করবে কারণ তাদের নিদর্শনসমূহ অনুধাবন করান ক্ষমতা থাকলে চলমান সূরার নাম বলদ হতো না।

হে লুকিলাম আপনি বলুন চলমান সূরা কি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ অপেক্ষা অধিক বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক ও সুস্পস্ট নয়?

তাহলে কেন পূর্ববর্তী নবীগণ সূরা রচনা সম্পর্কে ঠুনকো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল।

নিশ্চই আসমানী কিতাব মানুষই রচনা করেছে আর আললার নাম তাদেরকে সহায়তা করেছে।

————————-
একটি তুয়াম লুকিলাম প্রোডাকশন।

One thought on “সূরা বলদ

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.