সূরা রামেসিস

সূরা রামেসিস
কায়রোতে অবতীর্ণ
আয়াত সংখ্যা ৩৬।

১। কসম পিরামিডের, যা দাসত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবে দন্ডায়মান মরুভূমির বুকে।

২। হে মানব সম্প্রদায় তোমরা কি ফেরাউনের পরিণতি সম্পর্কে অবহিত নও?

৩। নিশ্চই ফেরাউন অত্যাচারী শাসক এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিশু হত্যাকারী ছিল।

৪। সূর্যের উপাসকগণ তাদের দাসদের বিদ্রোহের ব্যপারে শংকিত থাকত যাদের (দাসগণ) আধিকাংশই ছিল ইস্রাইলের বংশধর।

৫। অতপর ফেরাউন বনী ইস্রাইলের পুত্র সন্তানদের হত্যা করেছিল তার রাজত্ব কন্টক মুক্ত করতে।

৬। কিন্ত মুসা ছিল সৌভাগ্যবান শিশু যাকে ফেরাউন পুত্রস্নেহে লালনপালন করে এবং যুদ্ধবিদ্যা শিক্ষা দেয়।

৭। যখন মুসা তার পূর্ণ যৌবনে উপনীত হয় তখন সে জানতে পারে তার জন্ম সূর্য পূজারীর প্রাসাদে নয় বরং দাসীর জীর্ণ কুটিরে।

৮। নিশ্চই মুসা প্রগতির পক্ষে ছিল এবং নিজের শিকড়কে অস্বীকার করেনি।

৯। বরং স্বজাতির প্রতি মমত্ববোধ তাকে বিচলিত করেছিল এবং পরাক্রমশালী সম্রাটের বিরুদ্ধে ঘৃণার বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল তার অন্তরে।

১০। অতপর মুসা তার ভাগ্যকে সঙ্গী করে দেশে দেশে ভ্রমণ করেছে পরিব্রাজকের মতো এবং অর্জন করেছে চমৎকার সব অভিজ্ঞতা।

১১।অনন্তর সে সমুদ্রের মিলনস্থলে উপনীত হল এবং এক জ্ঞানী ব্যক্তির সাক্ষাত লাভ করল, যিনি মূলত ছিলেন একজন দক্ষ জাদুকর যার ব্যপারে মিশরীয় জাদুকরগণ অজ্ঞ ছিলেন।

১২। জ্ঞানের সাধক কথিত বৃদ্ধ মুসাকে লোহিত সাগরের গোপন রহস্য ব্যাক্ত করে দেয়।

১৩। তোমরা কি জান কী সেই রহস্য?

১৪। নিশ্চই তা সমুদ্রের জলরাশির বিভক্ত হবার লগ্ন যা নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্দিষ্ট স্থানে সংঘটিত হতো।

১৫। হে মুমিনগণ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ এব্যাপারে তোমাদেরকে মিথ্যা ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।

১৬। বরং মূসার দল সেখানে উপনীত হবার অনেক আগে থেকেই মিশরীয় এবং ইয়েমেনের কাফেলা সমূহ সমুদ্রের মধ্যকার সাময়িক সৃষ্ঠ পথের ব্যাপারে অবগত ছিল এবং ফেরাউনের সৈন্যদলের কেউ কেউ তা জানত।

১৭। কিন্তু ফেরাউনের বাহিনী সমুদ্র কতক্ষণ পূর্বে দ্বিখন্ডিত হয়েছিল তা জানত না কারণ তারা মূসার অতিক্রমের বহু পরে সেখানে উপনীত হয়।

১৮। অতএব অর্ধেক পথ অতিক্রম করার পরই সমুদ্র তার আগের অবস্থায় ফিরে যায় এবং ফেরাউনকে তার দলবল সহ গ্রাস করে এতে অলৌকিকতার কিছু নেই বরং তা ভোরের চন্দ্রের আকর্ষণে জোয়ার ভাটার খেলা এবং তীব্র বেগের বায়ুর প্রবাহপথের প্রাকৃতিক কারণ।

১৯। নিশ্চই মানুষ কম জানার কারণে সবকিছুর মধ্যে অলৌকিকতা আরোপ করেছে।

২০। হে তুয়াম আপনি বলুন মুসার সেই বিখ্যাত লাঠির বিষয়ে যা ছিল মূলত একটি সাধারণ মেষ তাড়ানো লাঠি।

২১। মুসা তার ভাই হারুনকে সঙ্গী করে তার পালক পিতার পুত্র এবং ভাতৃসম রামেসিসের দরবারে উপনীত হয়।

২২। যেখানে এক যাদুবিদ্যা প্রদর্শনীতে ফেরাউনের সাহায্যকারীরা হারুনের সম্মোহিত সাপের কাছে পরাজিত হয় যা সম্মোহিত অবস্থায় লাঠি এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সাপে রূপান্তরিত হতো।

২৩। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই বরং এসব তৎকালীন মিশরের জনপ্রিয় খেলা হিসেবে পরিচিত ছিল।

২৪। বরং হারুন এ বিষয়ে সমসাময়িকদের অপেক্ষা অধিক দক্ষতা অর্জন করেছিল। আর এজন্যই মুসা তার কওমের স্বাধীনতা সংগ্রামে হারুনকে সবসময় পাশে রেখেছিল কারণ সে জানত বৃহৎ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে অবশ্যই চৌকস কৌশলের প্রয়োজন আছে।

২৫। অনন্তর রামেসিস তার শৈশবের খেলার সাথীকে দেখামাত্র হত্যা করতে পারত কিন্তু মুসা প্রথম জীবনে একবার তার প্রাণ বাঁচানোর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মূসাকে কতল করা থেকে বিরত থাকে।

২৬। হে নবী আপনি বলুন মুহাম্মদ যেমন আবু তালেবের কারণে বারবার প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল এবং তালেবের মৃত্যুর পর মক্কা ছেড়ে পলায়ন করেছিল ঠিক একইভাবে রামেসিস তার পিতার পালক পুত্রকে বারবার সতর্ক করে দিচ্ছিল দাসদের উত্তেজিত না করার ব্যাপারে।

২৭। আর মূসা যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সমূহকে তার আললার গজব হিসেবে প্রচার করতে থাকে তখন ইস্রাইলের লোকেরা তা ধ্রুব সত্য হিসেবে বিশ্বাস করতে শুরু করে।

২৮। বরং সেইসব গজব ছিল আগ্নেয়গিরির উদগীরণ থেকে সৃষ্ঠ ভূকম্পন এবং তা থেকে নীল নদের পানিতে ছড়িয়ে পড়া রক্তবর্ণের বিষাক্ত খনিজ এবং বাতাশে ছড়িয়ে পড়া ছাই যা সূর্যের আলোকে কয়েকদিন যাবৎ বাধাগ্রস্ত করেছিল সেই সাথে আতঙ্কিত করেছিল কুসংস্কারাচ্ছন্ন দাসদের। যখন নীলের পানি লাল হয়ে শশ্যক্ষেত ধ্বংস করছিল তখন জনগন রামেসিসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে কারণ তারা ফেরাউনকেই নীল নদের মালিক এবং নিয়ন্ত্রনকারী মনে করত।

২৯। নিশ্চই এ ভ্রান্ত বিশ্বাস তাদের মধ্যে শত শত বছর বংশ পরম্পরায় প্রতিষ্ঠিত ছিল।

৩০। একদিকে বিদ্রোহ অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটে পতিত হয়ে রামেসিস বনী ইস্রাইলদের মুক্তিদানের জন্য চিন্তা ভাবনা শুরু করে।

৩১। অন্যদিকে মুসা তার বিশ্বস্ত অনুসারীদের নিয়ে মিশরীয়দের শিশু হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য গোপনে পরামর্শ করতে থাকে।

৩২। অতপর তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে মিশরীয়দের রাজন্যবর্গ, ধনী ব্যবসায়ীদের এবং উচ্চপদস্থ সৈনিকদের জ্যেষ্ঠ শিশুপুত্রদের ধীরগতির বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হবে।

৩৩। এবং তারা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছিল নৈশভোজ পরিবেশণকারী দাসীদের মাধ্যমে। আর মূসা এ ঘটনাকে অবশ্যম্ভাবী গজব হিসেবে পূর্বেই রামেসিসকেকে হুমকি দিয়েছিল।

৩৪। অনন্তর প্রভাতে যখন মিশরবাসীরা তাদের পুত্র সন্তানদের মৃতদেহ নিয়ে শোক পালন করছিল তখন মূসা তার কওমকে নিয়ে মিশর থেকে পালিয়ে যেতে থাকে যারা পূর্বেই প্রস্তুতি নিয়ে মুসার সংকেতের অপেক্ষা করছিল।

৩৫।হে লুকিলাম আপনি জানিয়ে দিন মূসা সফল বিপ্লবী হলেও একটি কওমকে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা তার ছিল না বরং রামেসিস এ বিষয়ে দক্ষতার অধিকারী ছিল।

৩৬। আর মুসা এক অকৃতজ্ঞ কওমের সর্দারি নিয়ে বারবার তাদেরকে নিয়মের অধীনে আনার জন্য আয়াতসমূহ বর্ণনা করেছিল যা বনী ইস্রাইল প্রস্তরফলকে সংরক্ষণ করেছিল।

একটি তুয়াম লুকিলাম প্রোডাকশন

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.