সূরা আন্ নটিনবী

সূরা আন্ নটিনবী
মিশরে অবতীর্ণ
আয়াত সংখ্যা ২৫
পবিত্র লুকিলাম টেস্টামেন্ট। (অবতীর্ণ হইছে হযরত মোহাম্মদ তুয়াম লুকিলাম (সাঃ)-এর উপর।)

১। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি হজরত লুকিলাম একজন সত্য নবী এবং বিভ্রান্তি দূরকারী।

২। নিশ্চই জুলেখার উচ্চপদস্থ স্বামী তার (জুলেখার) যৌবন জ্বালা নিবারণ করতে সমর্থ ছিল না।

৩। অতপর জুলেখা তার সুদর্শন দাস ইউসুফের প্রতি অাসক্ত হয়েছিল।

৪। হে নবী, দাসী গমন পুরুষের জন্য বৈধ হলেও তৎকালে স্ত্রীলোকদিগের জন্য দাসের সহিত সহবাস বৈধ ছিল না।

৫। ইউসুফের প্রেমে দিওয়ানা হয়ে জুলেখা তার (ইউসুফের) অপরিণত কিশোর বয়স থেকেই দৈহিক কামণা মেটাতে আমন্ত্রন জানিয়ে আসছিল এবং এই বালক দাসকে নানাবিধ সুযোগ সুবিধা দিতে স্বীয় স্বামীকে প্ররোচিত করেছিল।

৬। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে ইউসুুফ তার কৌমার্য ভাঙ্গে জুলেখার আমন্ত্রনে সারা দিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে সাত স্তর বিশিষ্ট সুরক্ষিত কক্ষে।

৭। হে তুয়াম বরং তাদের গোপনীয়তার সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যার্থ হয় কারণ জুলেখার জনৈক দাসী তাহাদের মৈথুনরত অবস্থায় দেখে ফেলে।

৮। সুদর্শন দাস হওয়ায় এই দাসীও ইসুফের প্রতি আসক্ত ছিল।

৯। তবে সত্য কথা এই যে ইউসুফ যতোটা না সুশ্রী ছিল তার চেয়ে তার ঈমানদন্ডের আকার আকৃতি ও কার্য ক্ষমতা নারীদের আকৃষ্ট করতো বেশি যার ব্যাপারে অন্দর মহলে দাসীদের মধ্যে কানাকানি চলতো।

১০। অতপর উক্ত দাসী ঈর্ষাবশত তার মালকিনের অপরাপর সখীগণের নিকট তার দাসগমনের কথা প্রচার করে দেয়।

১১। জুলেখার সহচরীগণ প্রত্যেকে উসুফের বর্ণনা শুনে এই দাসকে এক রাত্রির জন্য তাদের গৃহে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানাতে থাকলো।

১২। বস্তুত সেই সময় উচ্চপদস্থ ধনীদের স্ত্রীগণ কোন ভাল দাসের সন্ধান পেলে পরস্পর ভাগাভাগি করে নিতো তাদের স্বামীদের অনুপস্থিতিতে।

১৩। অতপর জুলেখা তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে এক ঘরোয়া মজলিশের আয়োজন করে যাতে ইউসুফকে নিয়ে তার বান্ধবীদের সাথে আমোদ ফুর্তি করা যায়।

১৪। যথারীতি উক্ত মজলিশে ইউসুফ নগ্ন হয়ে উপস্থিত হলে সবাই তাকে নিয়ে খেলায় মেতে ওঠে এবং একপর্যায়ে চরম উত্তেজনাময় মূহুর্তে তারা উইসুফকে টেনে হিঁচরে খামছে গুরুতর জখম করে দেয়।

১৫। ইউসুফের রক্তে অনেকের বসন রঞ্জিত হলে তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ হাত কেটে রক্ত প্রবাহিত করে তাদের গৃহে প্রত্যাবর্তন করে।

১৬। এবং তাদের স্বামীদের নিকট রক্তারক্তির একটা গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যা তুলে ধরে।

১৭। তবে তাদের এই বানানো অজুহাত বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি।

১৮। অধিকাংশ আমাত্যবর্গের স্ত্রীদের জুলেখার গৃহে গমন এবং হাত কর্তন তাদের মনে সন্দেহে অবকাশ সৃষ্টি করে।

১৯। মহিলাদিগের স্বামীগণ এ ব্যাপারে জুলেখার গৃহকর্তার নিকট প্রশ্ন করলে সে স্বীয় স্ত্রীর নিকট এর কারণ জানতে চায়।

২০। বুদ্ধিমতী জুলেখা তখন নিজের এবং সখীগণের সম্মান রক্ষার্থে স্বামীর নিকট ইউসুফ দর্শন, ফল কর্তনের সাথে হাত কর্তনের আংশিকসত্য ঘটনা ব্যাখ্যা করে মূল ঘটনাকে গোপন করে।

২১। নিশ্চই লুকিলাম সত্যের উপর আরোপিত মিথ্যার কালো পর্দা উন্মোচন কারী ও বিচক্ষণ।

২২। হে মানব সকল ইউসুফ একজন নটিনবী এবং প্লেবয় যে মালকিন ব্যতীত অন্যান্য দাসীদের সাথেও কামলীলায় মত্ত হতো

২৩। অনন্তর জুলেখা তার প্রিয় দাসকে তারই অন্তপুরের এক অল্পবয়সী দাসীর সহিত উপগত অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে।

২৪। এবং রাগে ক্ষোভে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পিছন থেকে ইউসুফের জামার একাংশ ধরে টেনে তুলতে গিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলে।

২৫। নিশ্চই ইউসুফ তার মনিব এবং মালকিন কারও প্রতিই কৃতজ্ঞ এবং বিশ্বস্ত ছিল না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.